
কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শেষ উপন্যাস 'শেষ প্রশ্ন'। আগ্রার পটভূমিকায় রচিত এই উপন্যাস সবদিক থেকেই ব্যতিক্রমী। আগ্রার বাঙালী অধ্যাপক সমাজের মধ্যে পাকাপাকিভাবে এসে বসবাস করতে শুরু করেন বিলেত ফেরত ব্যারিস্টার আশুতোষ গুপ্ত। আশুবাবু নামেই তিনি পরিচিত। বিপত্নীক। একমাত্র কন্যা মনোরমা। মনোরমার বাগদত্ত অজিত অটোমোবাইল এঞ্জিনীয়ারিং পড়ে বিলেত থেকে ফেরত আসে। আগ্রায় গড়ে ওঠে এক শিক্ষিত বাঙালী সমাজ। তার মধ্যে এসে হাজির হয় পাথরের ব্যবসায়ী শিবনাথ তার স্ত্রী কমলকে নিয়ে। তোলপাড় পড়ে যায় অধ্যাপক সমাজে। কারণ সংস্কারপন্থী কমলকে কেউ মেনে নিতে পারে না। তার বৈপ্লবিক কথাবার্তা নাড়িয়ে দেয় সংকীর্ণ ধ্যান ধারণার মানুষদের। শরৎচন্দ্রের শোষিত নিপীড়িত নারী চরিত্রগুলির মধ্যে কমল এক উজ্জ্বল ব্যতিক্রম। নাটকীয় ঘাত প্রতিঘাতের আড়ালে এ কাহিনী ভাবায়। চমকে যেতে হয় যখন দেখা যায় এই কাহিনী আজও কত প্রাসঙ্গিক। আশুবাবু এক জায়গায় বলেন, কমলের কথায় রাগ হয়, ভয় হয়, কিন্তু মনকে নাড়াও দেয়। চার্বাকের এই প্রয়াস মনকে নাড়াই দেবে।
নাটক, সঙ্গীত ও নির্দেশনা
অরিন্দম গাঙ্গুলী।